চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিখতে হবে

SHARE

মুসা ইব্রাহীম:

বিশ্ব মাতিয়ে বেড়াচ্ছে যেসব বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র, মুভি থিয়েটারে আপনি সপরিবারে দেখতে যান যেসব চলচ্চিত্র, সেগুলো কোন দেশের? এই প্রশ্নের উত্তর একেবারে সহজ – হলিউডের মুভিগুলো।

হলিউডি সাই-ফাই অ্যাকশনধর্মী মুভিগুলোর চিত্রনাট্যে প্রায়ই দেখা যায়, সব এলিয়েন এই পৃথিবী নামের গ্রহের সঙ্গে যোগাযোগটা আমেরিকার সঙ্গেই করতে চায়। কিংবা পৃথিবীর মানব ইতিহাস ধ্বংস করার কাজটা আমেরিকা থেকেই শুরু করতে চায়। হালে এ ধরনের বহু মুভি হয়েছে। পুরনো ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে’ মুভি’তে আমেরিকাকেই বিশ্বের ত্রাতা হয়ে এলিয়েনদের হাত থেকে পৃথিবী নামক গ্রহকে রক্ষায় অগ্রগামী ভূমিকায় নামতে দেখা যায়। তাহলে এই বিশ্বে কি আমেরিকার সমান আর অন্য কোনো দেশ নেই যাদেরকে এলিয়েনরা বিশ্বাস বা টার্গেট করতে পারে?
ক্যাপ্টেন আমেরিকা মুভি’র ক্যাপ্টেন ত্রাতা হয়ে তার দেশকে বড় সাইবার ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করে।

এই যে সিনেমাগুলোতে আমেরিকাকে এলিয়েনদের সবচেয়ে প্রিয় টার্গেট হিসাবে দেখানো হয় কিংবা একেকটা চরিত্রকে বিশ্ব বা পৃথিবী নামক গ্রহের রক্ষাকর্তার ভূমিকায় দেখানো হয়, এটা আসলে এক ধরনের বিজ্ঞাপন। বিনোদনের মাধ্যমে লোকজনকে বোঝানোর এই ‘প্যাসিভ অ্যাডভার্টাইজমেন্ট’ পদ্ধতিই এখন আমজনতার মাঝে প্রভাব বিস্তারে বেশ কার্যকর। আপনি উপভোগ করছেন বিনোদন, কিন্তু বিজ্ঞানের স্বর্ণশিখা’র কথা বললে আপনার অবচেতন মনে আমেরিকার কথাই মনে হবে – ইউকে, রাশিয়া, চায়না, জাপান কিংবা জার্মানিকে নয়।

এটা কি তাহলে ‘সিউডো চ্যাম্পিয়ন’শিপ? আমেরিকা নিজের ঢোল নিজেই পেটাতে চায় দেখেই কি এমন মুভি বানায়? না কি আমেরিকা নিজেদের গুণগান প্রচার করতে ভালোবাসে দেখে এসব গল্প তৈরি করে? এসব প্রশ্ন আপনি করতে পারেন, কিংবা, এমন যুক্তিও আপনি দিতে পারেন।তবে, বাস্তবতা হলো – পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং প্রভাবশালী কান চলচ্চিত্র উৎসব, মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কিংবা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রায় সময়ই শীর্ষ পুরস্কার অর্জনকারী মুভিগুলোর দিকে নজর বুলালেই বুঝবেন যে আমেরিকা শুধু নিজেদের ঢোল নিজেরা পিটিয়েই থেমে থাকে না, বরং, ভালো কিছু মুভি নির্মাণ করে দেখেই তারা এখানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এই ফাঁকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের সেই বিখ্যাত উক্তিটা স্মরণ করিয়ে দেই – কোনোরকম যুদ্ধ বা শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই যদি আপনি প্রতিপক্ষকে আপনার শক্তি বুঝিয়ে দিতে পারেন, সেটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধজয়।

বাংলাদেশের তরুণদেরকেও এই চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিখতে হবে। জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, গবেষণায়, লেখাপড়ায়, ব্যবসাবাণিজ্য-অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে, সমাজসেবায়, মানুষের কল্যাণে, দেশ পরিচালনায় – সব জায়গায় আমরা যেন চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। এজন্য আপনার উপলদ্ধিটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

তরুণ ভাই ও বোনসকল, কিভাবে করবেন আপনার কাজটি? চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সহজ উপায় কি? আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, পথে নামুন, এগিয়ে চলুন – বাধা আসবেই, থামবেন না, চ্যাম্পিয়ন আপনি হবেনই। ইতিবাচক চিন্তা করুন। কেউ আপনাকে ঠেকাতে পারবে না।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, শিক্ষা ও গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ান। জিডিপি’র ৬-৭ শতাংশ শিক্ষা-গবেষণায় ব্যয় করুন। ভবিষ্যত হাঁটছে যাদের হাত ধরে, সেই তরুণদেরকে চ্যাম্পিয়ন করে গড়ে তুলে দেশের জন্য তাদের মেধা ব্যবহার করতে শিক্ষা-গবেষণায় ব্যয় বাড়ান। এর সুদূরপ্রসারী ফল সুমধুর হতে বাধ্য।

মুসা ইব্রাহীম: একজন বাংলাদেশী পর্বতারোহী এবং সাংবাদিক, যিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন।