চাকরিটা হাত ফস্কে যাচ্ছে বারবার, কিন্তু কেন?

SHARE

ওয়ালিদুর রহমান:

প্রচুর জব সার্কুলার দেখে অন লাইন বা অফ লাইন এপ্লিকেশন করছেন, সিভি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু ডাক পাচ্ছেন না।

অথবা প্রচুর ইন্টারভিউ এটেন্ড করছেন কিন্তু চাকরী কনফার্ম হচ্ছে না।
কেন হচ্ছে এমন?
দিন দিন ফ্রাস্টেটেড হয়ে যাচ্ছেন? মনে মনে হতাশা ও কষ্টে ভুগছেন। কখনো ভেবেছেন কেন?

কর্পোরেটের পেটের কথা বলব আজ। হয়তো এর কোনো একটা ঘটছে আপনার ক্ষেত্রে।

ইমোশনে ভেঙে না পড়ে আসুন লজিক্যালী ভাবুন। কারনগুলো হতে পারে এমন:

১.সিভি, যেটাকে আপনি দারুন মনে করেন সেটা আসলে দারুন না।

২.ইন্টারভিউতে যেসব প্রশ্ন করেছে সেগুলোর বেশিরভাগ সুন্দর এনসার করতে পারেননি মানে স্কোর কম।

৩.আপনি যত ভালই ইন্টারভিউ দিয়েছেন তার চেয়েও ভাল কেউ দিয়েছে।

৪.ইন্টারভিউতে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, জেশচার, পশচার, এপিয়ারেন্স, গেটআপ আপ টু মার্ক ছিল না।

৫.সিরিয়াস ছিলেন না।

৬.মরিয়া হয়ে চাকরীর প্রয়োজনীয়তা ইন্টারভিউয়ারকে বলেছেন।

৭.প্রতি ইন্টারভিউতে কিছু ট্রিকী প্রশ্ন থাকে। আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করা হয়েছে বলে মনে করে উত্তর দিয়েছেন আর ভাবছেন “ফাটিয়ে দিয়েছেন” আসলে সেটা ছিল না। তার মানে ভুল বুঝে ভুল উত্তর দিয়েছেন।

৮.যে ধরনের talent খোঁজা হচ্ছে আপনারটা তা নয় কিংবা বিজ্ঞাপনে যে অভিজ্ঞতা বা কোয়ালিফিকেশন চাওয়া হয়েছে আপনারটা তা নয়।

৯.চাকরীদাতার কাছে পাওয়ারফুল বা ইনফ্লুয়েন্সিয়াল কোনো লবিং এসেছে।

১০.আপনার একাডেমিকস ভালো কিন্তু আইকিউ ও শার্পনেস ভাল না।

১১.ক্রিয়েটিভিটি, প্রবলেম সলভিং পাওয়ার, চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা কম মনে হয়েছে।

১২.বিজ্ঞাপিত ক্রাইটেরিয়া না জেনে বা বুঝেই এপ্লাই করা।

১৩.একই কোম্পানীতে পাগলের মতো অসংখ্য বিভাগের জন্য এপ্লাই করা।

১৪.আপনার সব ভাল কিন্তু ইংরেজিতে খারাপ।

১৫.কম্পিউটারে আপনি দুর্বল।

১৬.আপনি খুবই কোয়ালিফাইড কিন্তু নার্ভাসনেসের জন্য ইন্টারভিউতে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারেন না।

১৭.কোয়ালিফাই করলেন কিন্তু আপনার অবাস্তব চাহিদা কোম্পানী মিট করতে পারল না।

১৮.মেইলে সিভি পাঠালেন কিন্তু কভার লেটার বা এট লিষ্ট দু’লাইন মেইলও লেখেন না, যাস্ট এটাচ করে সিভি পাঠিয়েছেন।

১৯.ইন্টারভিউ ডেট মিস করে পরে আবার গিয়েছেন বা সময়ের অনেক পরে এসেছেন।

২০.চেয়েছে অভিজ্ঞ কিন্তু আপনি ফ্রেশার কিংবা চেয়েছে ফ্রেশার কিন্তু আপনি ৫ বছরের অভিজ্ঞ।

২১.আপনি অনেক কোয়ালিফাইড ও অভিজ্ঞ কিন্তু কোম্পানী তার চেয়ে জুনিয়র বা কম বেতনের লোক নেবে।

২২.লোক নেবে ২ জন, আবেদন করল ১৫০০ জন। তখন সিভি হয় ফিল্টারিং হয় ডিজিটালি অথবা ম্যানুয়ালি। ফলে আপনি ভুলক্রমেও বাদ পড়তে পারেন।

২৩.প্রচুর বদ কোম্পানি ও থার্ড ক্লাস এইচআর আছে। খামখেয়ালি, মন মর্জি, অবহেলা করে পারফেক্টলী সিভি স্ক্রিনীং ও ইন্টারভিউ করে না। করলেও রেজাল্ট দিতে গরিমসি করে। রেজাল্ট হলেও ভুল লোককে চুজ করে। ফলে আপনি তার শিকার হন।

২৪.প্রচুর বাজে এইচআর আছে। কোম্পানীর টপ ম্যানেজমেন্টও করাপটেড আছে। লোক অলরেডি নিয়ে নিয়েছে। শুধু নিয়ম রক্ষার্থে এড দেয়।

২৫.যেই পজিশনের জন্য কল করেছিল মানে পজিশন ভ্যাকেন্ট হয়েছিল সেই পজিশনে কোম্পানীর ইন্টারনাল জুনিয়রকে প্রোমোট করে ফিল আপ করে ফেলেছে কিংবা ওই পজিশনে লোক নেবার দরকারটা সার্কুলার হবার পরে কোনো কারনে ফুুরিয়ে গেছে।

২৬.শুধুমাত্র ৪টি ডিগ্রী ছাড়া আর কোনো যোগ্যতা ও দক্ষতা আপনার নেই।

২৭.চারটি ডিগ্রীর সার্টিফিকেট আছে কিন্তু ভূ-ভারতে কোনো কর্পোরেট পার্সনের সাথে আপনার কোনো লিংক, রেফারেন্স নেই।

২৮.আপনার সিভিতে ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়েছেন কিংবা বর্তমান কর্মস্থলে ভেরিফিকেশনে নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

সমস্যাটা বললাম। সমাধানটা একটু উদ্যোগী ও অনুসন্ধিৎসু হলে নিজেই বের করে ফেলতে পারবেন। তাহলে অপেক্ষা কেন, ফ্রাস্ট্রেশন কেন? সমস্যার গোড়া যখন জেনেছেন তখন ঝাঁপিয়ে পড়ুন আজই।

লেখক: প্রাবন্ধিক, মানবসম্পদ উন্নয়ন গবেষক ও প্রধান প্রশাসক, ডিজাইন ইউর ক্যারিয়ার, https://www.facebook.com/Walid4career/