টকশোতে মারামারি: এবার মুখ খুললেন উপস্থাপক স্বয়ং

SHARE

সোমবার দিবাগত রাতে ইটিভির টকশো ‘একুশের রাত’-এ মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ (অব.) এবং অধ্যাপক ড. শহীদুজ্জামান হাতাহাতির ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক মঞ্জুরুল আলম পান্না।

মঙ্গলবার বিকেলে তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও একুশে টেলিভিশনের ভূমিকা নিয়ে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রিয়.কম-এর পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল।

ফেসবুকে মঞ্জুরুল আলম পান্না লিখেন, ‘গত রাতে (সোমবার) একুশের রাত অনুষ্ঠানে দুই জন সম্মানিত অতিথির মধ্যে যা ঘটেছে, তার জন্য অনুষ্ঠানের একজন উপস্থাপক হিসেবে যে আমি লজ্জিত, তা বিশেষভাবে বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে কিছু লেখাটাও আমার জন্য বিব্রতকর। কিন্তু যখন কোন কোন বিশেষভাবে বিদগ্ধজন অহেতুক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন তখন আর চুপ করে থাকাটা সমীচীন নয় বলে মনে হলো। বিশেষভাবে বিদগ্ধজন ব্যক্তির অভিযোগ, টিআরপি বাড়ানোর জন্য ক্ষিপ্ত প্রতিপক্ষ দুই আলোচককে নিয়ন্ত্রন করা হয়নি ইচ্ছাকৃতভাবে। অভিযোগকারী বিদগ্ধজনকে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই-

১. কথিত টিআরপি’তে অন্তত একুশে টেলিভিশন বিশ্বাসী নয়।

২. তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, তার চাকরীস্থল টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠিত কোন এক টক’শো শেষ হয়ে যাওয়ার পর অতিথিদের বক্তব্য বা কথাবার্ত/ কর্মকান্ড গোপনে রেকর্ড করে ইউটিউবে ছেড়ে দেয়া মতো কোন অনৈতিক ঘটনা অন্তত এক্ষেত্রে একুশে টেলিভিশন করেনি।

৩. অবশ্যই আমি নিজেকে এখনও একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে কুন্ঠাবোধ করি, বড়জোর দাবি করতে পারি একজন সংবাদ কর্মী হিসেবে। আর টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপকদের মধ্যেও আর সবার চেয়ে নিজেকে অনেক বেশী অনভিজ্ঞ, মুর্খ বলে মনে হয় (অন্তত: যারা জ্ঞান দিচ্ছেন, তাদের তুলনায় নি:সন্দেহে)। প্রশ্ন, ওই ধরনের উত্তপ্ত অবস্থায় সংশ্লিষ্ট অতিথিদের কয়েক দফা থামানোর চেষ্টার পর বিরতিতে যাওয়া ছাড়া আর কী-ইবা করার থাকতে পারে। মজা লেগেছে, যিনি জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনিও ওই একই পরামর্শ দিয়েছেন। কিংবা আরো আগে বিরতিতে যাওয়ার যে পরামর্শের কথা বিদগ্ধজন বড় ভাই বলছেন তার উত্তরেও সবিনয়ে বলতে চাই, আলোচকদের প্রতিটি উত্তপ্ত বাক্যে বিরতি নিতে হলে তখন টক’শো বলে কিছু আর থাকবে না, তা হবে বিরতি শো।

৪. টক’শোগুলোতেতো সাধারনত মূর্খ বা সন্ত্রসিী লোকদেরকে ডাকা হয় না, ভদ্র এবং সুবিবেচনাসম্পন্নদেরকেই আমন্ত্রন জানানো হয়। তারাই যদি কখনো কোন অনাকাঙ্খিত এবং অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি করেন, হাতাহাতি বা মারামারির মতো জঘণ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন, তা আগে থেকে বোঝার ক্ষমতা বিশেষ বিদগ্ধজনদের থাকলেও আমার নেই। সত্যিই কী তাদেরও আছে?

৫. আর অতি চেনা প্রিয় মুখ বড়দা বলেছেন, আমি ভীত হয়ে পড়েছিলাম। খুবই সত্য, সেটাইতো স্বাভাবিক। কারণ কোটি কোটি মানুষকেতো টক’শোর নামে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জঘন্য সংঘর্ষ দেখাতে চাই না সরাসরি। আমি লজ্জা নামক ভয়ে ভীত।

বি. দ্র: তারপরও বিদগ্ধজন বড় ভাইকে ধণ্যবাদ সমালোচনার জন্য।
পুণশ্চ: নিজে যারে বড় বলে, বড় সে নয়……’