এ শুধু গানের রাত (ভিডিও)

SHARE

বিনোদন ডেস্ক:এ যেন গানের রাত, গানের সুরে মাতোয়ারা হবার রাত। মাটির গানে মিশে যাবার রাত। শুক্রবার ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব-২০১৬ গানের রাত হিসেবেই ধরা দিল ঢাকা আর্মি স্টেডিয়াম।

আত্মার গান আত্মশুদ্ধির গান শোনার জন্য সবস্তরের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যা ছ’টায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। তার অনেক আগেই ভিড় আর্মি স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখের দু’পাশে লোকগান উপভোগ করতে আসা জনতার।

jahid

নির্ধারিত সময়ের কিছু পরেই জালালের বাঁশির জাদুকরী সুরের এক ভিন্ন আলোড়ন তৈরি। তার সঙ্গে হাজির হন কক্সবাজারের বিস্ময় প্রতিভা জাহিদ। এ শিশুশিল্পীর ‘মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা’ গানে মাতোয়ারা দর্শক।

এরপর বাউল গানের জনপ্রিয় শিল্পী লতিফ সরকার মঞ্চে আসেন। তার ‘একদিন মাটির ভেতর হবে ঘর’ গানটি সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো উপভোগ করেন। ‘আমার বাবা মাওলানা’সহ আরো বেশকিছু গান পরিবেশন করেন লতিফ।

ঘড়ির কাঁটা রাত ৮টা পেরিয়ে গেছে। ঘোষণা আসে কানাডার লোকগানে জনপ্রিয় শিল্পী প্রসাদ এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত শিল্পী তানভীর আলম রাজীব পরিবেশনা নিয়ে আসছেন। একদিকে প্রসাদ যেমন গিটার, বাঁশির, সেতার বাজিয়ে মুগ্ধ করেন। ঠিক তেমনিভাবে তার গাওয়া ‘রাইজ লাইক এ সান’ এবং ‘রাইজ আপ দ্য পিপল’ গান দু’টি দর্শকনন্দিত হয়। বিশেষ করে প্রসাদের সেতারের সঙ্গে রাজীবের তবলার বাদ্যযন্ত্র বাজানোর লড়াই উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

prosad

ইন্ডিয়ান ওশান নামে ভারতীয় জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আইলো না আইলো না আমার বন্দেহ্’ ও ‘আমার খুঁটিতে বান্দিও আমার নাও’সহ প্রায় আধাঘন্টা সঙ্গীত ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মাতিয়ে রাখেন উৎসব।

বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম কোক স্টুডিওতে অংশ নেয়া বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল ‘চাতক বলি কেমনে’ ও ‘আমি মন-মন্দিরে পূজা দেব’ গানে দর্শক মজে ওঠেন।

শিশিরসিক্ত রাত বাড়ছে। তবুও ফোক ফেস্টে হাজির হাজার হাজার দর্শকের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।

এরপর মঞ্চে ওঠেন স্পেনের মিউজিক্যাল গ্রুপ কারেন লুগো এন্ড রিকার্ডো মেরো। তাদের ফোক গানের সঙ্গে ওই দেশের বিশেষ ধরনের জনপ্রিয় নাচ ফ্লামেস্কোও পরিবেশন করা হয়। শুক্রবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এ নাচ। তাদের পরিবেশনা শেষ হয় রাত সাড়ে ১২ টায়।

spian
এবার শুধু অপেক্ষার পালা। আর এ অপেক্ষা ভারতের জনপ্রিয় ফোক, পপ-রক তারকা কৈলাস খেরের জন্য। রাত ১টার পর স্টেডিয়ামজুড়ে শীত শীত আবহাওয়া নিয়েই মঞ্চে ওঠেন তিনি। মঞ্চের ডানপাশ থেকে আহ জি আহ জি গায়তে গায়তে স্টেজে উঠলেন কৈলাস।

মুহূর্তেই তার মায়াবী সুরের মূর্ছনায় উল্লসিত হন দর্শকরা। তারপর বাম বাম ভোলে, প্রিতকি লাথ মোহে এইছি লাগি, সাইয়া, তওবা তওবা, আল্লা কি বান্দেসহ জনপ্রিয় গানগুলো স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গাইতে থাকেন। এ শিল্পীর পরিবেশনার মাধ্যমেই দ্বিতীয়দিনের আয়োজন শেষ হয়। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ২টা। তবুও যেন দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফের এমন গান উপভোগ করার মানসে গভীর রাতে স্টেডিয়াম ছাড়েন সবাই।