হিমুদের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ

SHARE

বিল্লাল হোসাইন

উইদাউট এনি এপ্রোপ্রিয়েট রিজন, কেন মন খারাপ
হয় তা এখন ও হিমু বের করতে পারে নি। লাস্ট ৩ টা
রাত এটা নিয়ে বিস্তর গবেষনা করেছে, কিন্তু
রেজাল্ট শূন্য। এখন নিজেই নিজের উপড় বিরক্ত।
ধ্যাত, মহাপুরুষ আর হয়ে উঠা হল নাহ। মাথাটা ও ভার ভার
লাগতেছে। আর এটা নিয়ে ভাবা যাবে নাহ। আজ
বিশেষ দিন, সে উপলক্ষে আজ নৈশকালীন ভ্রমন।
শুরুতেই মফিজের চা খেতে হবে। সে আমার
জন্য যে চা বানায় তার নাম- ইসপিসাল, ডাবলপাত্তি। এই
চায়ের বিশেষত্ব হল ঘন লিকার, প্রচুর দুধ আর মাঝারি
চিনি। এই ইসপিসাল ডাবলপাত্তি চা কখনোই কাপে করে
আসে নাহ, প্রমান সাইজের গ্লাস ভরতি করে
আসে। এক গ্লাস ইসপিসাল ডাবলপাত্তি চা খেলে
আগামী ৩ ঘন্টা আর কিছু খেতে হয় নাহ। মুখে তালা
লাগার মত অবস্থা। সাথে একটা সিগারেট হলে
ব্যাপারেটা জমে মতলবের ক্ষীর হয়। চাদপুর
মতলবের ক্ষীর যারা খায় নি তারা আবার এই ব্যাপারটা
বুঝবে নাহ।
যা হোক চা সিগারেট পর্ব এন্ড করে হাটা শুরু করলাম।
রাত ১২ টা বেজে ৫০ মিনিট। আমার জন্য এমন কোন
রাত না- বলা যেতে পারে রজনীর শুরু। এই
শহরের বেশীর ভাগ মানুষই ঘুমিয়ে গিয়েছে।
তবে যাদের সামনে SSC, HSC বা BCS পরীক্ষা
তারা বই সামনে নিয়ে মোবাইলে ফেসবুক
গুতাচ্ছে। তবে নতুন বিয়ে হওয়া স্বামী স্ত্রীর
কথা আলাদা- তারা জেগে আছে, হরলিক্স দিয়ে দুধ
খাচ্ছে সাথে হাফ বয়েল ডিম। সারা রাত কঠোর
ভাবে T-20 খেলবে বলে। প্রচুর পরিশ্রমের
খেলা …
তবে আমি জোরে হাটছি। শখ করে যে
জোরে হাটছি ব্যাপারটা তা নয়। এর পিছনে কারন
আছে, একটা ফাস্ট ফুড শপ খুজছি। আজ এক জনের
জন্মদিন, তাকে উইশ করার জন্য একটা কেক
কিনতে হবে।তবে কিনতে হবে নগদ টাকায়। আমার
সমস্যা হচ্ছে আমার গায়ে যে পাঞ্জাবী তাতে
কোন পকেট নেই। পকেট নেই বলেই মানিব্যাগ
ও নেই । পকেটহীন এ পাঞ্জাবী আমাকে রুপা
দিয়েছে। তাকে বলেছিলাম,
-কি পাঞ্জাবী দিলে? পকেট নেই তো?
-পকেটের তোমার দরকার কি! মহাপুরুষদের তো
টাকাই লাগে নাহ, তারা পকেটে কি রাখবে?
-তাই তো! পকেটের আবার কি দরকার!
তার পর যে রাতে এ পাঞ্জাবী পড়েছি সেদিনই
এমন টাকাহীন অবস্থায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়েছি। তবে
আজ যে করেই হোক একটা ভালো সুন্দর কেক
কিনেই জন্মদিন উইশ করতে হবে। কিন্তু টাকা সমস্যা
… দোকানদাররা এখন যথেষ্ট নগদ সচেতন হয়ে
গেছে নতুবা বাকীতে কিনা যেত। তারা
দোকানের সামনের শোকেসে বড় করে
লিখে রাখে … “নগদ বিক্রী পেটে ভাত, বাকী
বিক্রি মাথায় হাত”।
ধূর আমার কারনে কারো মাথায় হাত পড়ুক তা চাই নাহ।
অবশ্য ফুপাতো ভাই বাদলের কাছে গেলে
অনায়াসেই দশ বিশটা কেক কিনার টাকা পাওয়া যাবে।
কিন্তু বড় ফুপা আমাকে দেখলে মোটেই
আনন্দিত হবেন নাহ। তার বাড়িতে আমাকে নিষিদ্ধ
ঘোষনা করেছেন। আমাকে দেখলেই গেট
আউট, গেট আউট বলে হুংকার দিয়ে বলবেন,
সাড়ে ৩ মিনিটে ভ্যানিশ হয়ে যাও নাইলে বন্দুক
বের করবো।
এটা তার কথার কথা নাহ। ঢাকার এডিশনাল আইজি তার
হাফপ্যান্ট কালের বন্ধুমানুষ। তাকে দিয়েই এই টু টু
বোরের একটা রাইফেল কিনিয়েছেন। এটা এখনও
ব্যবহার করেন নি। So, He is waitng for using this
raifel. আর বাকী থাকেন সুরমা ফুপু। সূর্যের
চেয়ে বালি গরমের মত, বড় ফুপার চেয়ে তিনি
বেশী গরম। ঢাকার এডিশনাল আইজি তো অনেক
দূরের ব্যাপার যদি কোন থানার হাবিলদারের সাথে ও
ওনার পরিচয় থাকত তাহলে উনি নির্ঘাত একটা Ak-47 এর
লাইসেন্স নিয়ে নিতেন। তাই বাদলের কাছে যাবার
প্লান বাদ। বাদ মানে টোটালি বাদ।
এসব ভাবতে ভাবতেই টহলপুলিশের সাথে ফেস টু
ফেস সাক্ষাত হয়ে গেল। তারা দলে ৬ জন। আগে
দুই জন করে বের হত। তবে কিছুদিন আগে দুইজন
পুলিশ সদস্যকে ISIS এর বাংলাদেশী শুভেচ্ছা দূতরা
কুপিয়ে মেরে ফেলার পর বোধহয় দুজন করে
বের হতে সাহস পাচ্ছে নাহ, তাই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬
জন। আমাকে দেখেই একজন চেচিয়ে বলল,
-কে যায়? নাম পরিচয় কি?
-আসসালামুয়ালাইকুম, আমি হিমু। আপনারা কেমন আছেন?
আপনাদের পরিবার মানে ভাবীরা কেমন আছে?
বাচ্চা কাচ্চা?
পুলিশের পুরো দলটাই ভড়কে গেল। তাদের
কেউ কুশল জিজ্ঞেস করলে তারা আউলা ঝাউলা
হয়ে যায়। কাজেই পুলিশদের একজন আমার দিকে
থ্রী নট থ্রী রাইফেল তাক করে বলল,
-পকেটে কি? বের কর।
-পকেটে কি থাকবে? আমার পাঞ্জাবীতে
পকেটই নেই।
-ইতরামি করছ? হারামজাদা, থাপ্পড় দিয়ে দাত ফেলে
দিব।
– দাত ফেলতে চান ফেলেন, ভালো কথা। পুলিশ
আর ডেন্টিস্ট দাত ফেলবে না তো কি বাল
ফেলবে? তবে বাম গালে থাপ্পড় দিবেন, মাড়ির
একটা দাত ব্যাথা করে। টাকার জন্য ডেন্টিস্টের
কাছে যেতে পারতেছি নাহ। ফেললে বাম মাড়িরটাই
ফেলে দেন। তবে দাত ফেলার আগে দয়া করে
পাঞ্জাবীটা একটু পরীক্ষা করে দেখুন, সত্যিই
পকেট নেই।
অতঃপর একজন পরীক্ষা করার জন্য এগিয়ে এল। সারা
শরীরে কাতুকুতু দিয়ে এক ড্রাম বিস্ময় নিয়ে
ওদের দলপতি কে বলল, ওস্তাদ আসলেই পকেট
নাই। যাকে ওস্তাদ বলা হয়েছে সে সম্ভবত
সবচেয়ে বয়স্ক ও জ্ঞানী। সে বলল,
মেয়েছেলের পাঞ্জাবী। মেয়েছেলের
পাঞ্জাবীতে পকেট থাকে নাহ। খেচ্চর
কোনহান কার মেয়েছেলের পাঞ্জাবী পরে
রাস্তায় বের হয়ে গেছিস। চল থানায় চল। আমি
বললাম, চলেন যাই। আচ্ছা আপনারা কোন থানার
আন্ডারে? শাহবাগ নাকি রমনা?
এই কথা শুনে পুলিশের দলটা পুরোপুরি ভোদাই
হয়ে গেল। তারা থানায় যাওয়ার ব্যাপারে এত আগ্রহী
কোন আসামী আগে দেখে নাই। তখনই
আগের ওস্তাদ মনে মনে ভাবলেন- হতে পারে
বড় কোন পুলিশ অফিসারের আত্মীয়,
আমাদেরকে ফাসানোর জন্যই গায়ে পড়ে থানায়
যেতে চাচ্ছে ।তাই সে বলল, এই হিমু না টিমু
তোমার কি থানায় পরিচিত কেউ আছে?
আমি ভাবলাম এইবার বাগে পাওয়া গেছে, তাই বললাম-
হ্যা, ঢাকার এডিশনাল আইজি মোহাম্মদ শরীফুল হক
আমার বড় ফুপার হাফপ্যান্ট কালের বন্ধু। গত
কালইতো আমরা একসাথে লাঞ্চ করলাম। এখন তো
পুলিশ দলপতির আত্মা খাচাছাড়া হওয়ার যোগাড়। পারে
নাহ এসে পা ধরবে। কোনরকমে বলল,
– স্যার, ভুল হইয়া গেছে। আমরা আপনারে চিনতে
পারি নাই। তাই সার্চ করছি, আপনারে থাপ্পড় দেওয়ার
কতা কইছি। স্যার ক্ষমা চাই। এডিশনাল আইজি স্যারের
কাছে আমাগো কথা কইয়েন নাহ।
– আচ্ছা যান ক্ষমা গ্রান্টেড। যান টহল দেন।
এমন সময় ওস্তাদ পুলিশ তার পকেট থেকে মানিব্যাগ
বের করে একটা কড়কড়ে ১০০০ টাকার নোট
আমার হাতে ধরাই দিয়ে বলল,
-স্যার, অনেক রাত হইছে একটা টেক্সিক্যাব নিয়া
বাসায় যান গা। এই কথা বলেই, আমাকে কিছু বলার চান্স
না দিয়েই পুলিশ গুলা অহেতুক উলটা দিকে দৌড় দিল।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখলাম।
এখন রাত ঠিক ২ টা বেজে ১২ মিনিট। আমি রুপাদের
বাড়ির ছাদে বসে আছি। আমার সামনে একটা ছোট্ট
টেবিলে বার্থ ডে কেক। কেকের উপড়ে
একটা মাঝারি আকারের মোমবাতি। আমি বেইলি রোড
থেকে কেকের সাথে মোমবাতি আনতে ভুলে
গিয়েছিলাম। তাই রুপা ওর সংগ্রহ থেকে আমাকে
একটা দিয়েছে। আমার পাশেই রুপবতী রুপা তার
সমস্ত রুপ নিয়ে বসে আছে।রুপা বলল,
– কেক কাটো, অলরেডী ২ ঘন্টা ১৩ মিনিট লেট
করেছো।
আমি আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালাম। রুপা আমার
হাতটা ধরে কেকটা কাটলো। আমি তারার মাঝে
বাবাকে খুজতে লাগলাম। আমার চোখ অস্পষ্ট হয়ে
আসে …… মহাপুরুষদের চোখে পানি আসতে
নেই … হিমুর চোখে পানি এটা বাবা নিশ্চয় পচ্ছন্দ
করবেন নাহ। তাই রুপার অগোচরে আমি চোখের
পানি মুছে রুপাকে কেক খাওয়াই দেই ……
*** আজ ১৩ নভেম্বর। বাংলা সাহিত্যের রাজপুত্র,
মিসির আলী, রুপা, হিমু চরিত্রের জনক হুমায়ন
আহমেদের জন্মদিন। বাংলার হাজার হাজার হিমুদের
পক্ষ হতে স্যারের জন্য এই লেখা।
এতটুকু লিখতেই স্যারের কয়েকটা বইয়ের সাহায্য
নিতে হয়েছে। অনুকরন করে লিখার জন্য স্যার
আমার সাথে অবশ্যই রাগ করবেন নাহ। কারন তিনি
আমার স্যার …… আমি অনুকরন করতেই পারি। হিমুকে
আবার রাস্তায় হাটাতেই পারি। স্যার
আকাশের তারা হয়েই ভালো থাকুন …… শুভ জন্মদিন. …
প্রিয় লেখক হুমায়ন আহমেদ।
বিল্লাল হোসাইন
১৩ই নভেম্বর, ২০১৬
আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম।