তাশরিক-ই-হাবিব এর কবিতা “ভ্রমন”

SHARE

ভ্রমন

জলরঙা স্বপ্নের নরম আহ্বানে কতদিন ভেবেছি,
বেরুবো এবার
সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে, হৈমন্তী রোদের মিঠে উত্তাপে
ঘেমে নেয়ে একাকার হব, বিজন বনের বুকে
যেমন খুশি পা বাড়াবার দুর্নিবার প্রলোভনে।
অনেক তো হল, দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাবার খেলা
অজস্র চোরা চাহনি আর দীর্ঘশ্বাসের কারবার
আর কেন তবে? যার যার পথ বুঝি তার তার!

আমার পায়ের তলে শিশিরের দুর্লভ রঙধনু জীবন
ঝরে পরার আগে কানে কানে বলে আরবার
এ জীবন যার যার, জোর করে মেলে না
দুই দ্বিগুণে চার। থাক দূরে সরে
প্রাত্যহিক দিনগুলো।
এখন কিছুটা সময় কেটে যাক
দিঘির টলমল জলে
স্নানরতা রমণীর নাকি ধবধবে শাপলার
ভেজা শরীরের মদিরতায়
বিভোর হবার একাগ্রতায়। অথবা
তরুণী ফড়িঙের অলৌকিক বিভায় একঠায় চেয়ে থেকে
আকাশের নীল আর ময়ূরের বর্ণালি
তল্লাশি চালিয়ে যাবার দুরন্তপনায়।
আশ্চর্য সুন্দর হলদে বউয়ের উল্লম্ফন
শিমুলের মগডালে। কচুরিপানা শাড়িতে ঘোমটা টানা
জলের মেয়ে দুলে দুলে কাকে ডেকে যায়!
এসবই কি মায়াবিনীর চাল! কাছে এসে ডেকে ফেরে
হাত বাড়ালে শুধুই শূন্যতা!

সুনসান দ্বিপ্রহরে ঝর্ণার কলতান
তোমার সঙ্গে অবগাহনের কাল্পনিকতা বুঝি!
নাকি আদিম মানুষের আরণ্যক পরিচয়
পুনরুদ্ধারের নতুন অভিযান!
বিকল হৃদয়ের শুশ্রূষা পেতে
ঝাঁঝালো শরীরের আনাচে কানাচে
মেখে নিই রোদের সবটুকু উস্নতা
জলকেলি করে ফিরি প্রতারক রাজহাঁসের
অবারিত ডানা নাকি দুবাহু মেলে
পাহাড়ি তরঙ্গিণীর ভূগোলিক ব্যপ্তিতে
নিশি জাগরণে, অথবা দুঃসাহসিক বাস্তবতায়।

তাশরিক-ই-হাবিব, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়