ভদ্রপল্লীতে বাংলা ভাষাটা অবহেলার হয়

SHARE

নুরুল ইসলাম

ভদ্রপল্লীর অধিকাংশ অতিসচেতন অভিভাবক সন্তানদের “গ্লোবাল সিটিজেন” বানাতে চায়, ঠিক এখানেই কেরিয়ারের কাছে মাতৃভাষা দিন দিন মাইর খেয়ে যাচ্ছে। মাতৃভাষা “মা” এর গুরুত্ব নেই, ইংলিশ ভাষা “আন্টি”র কদর ই বেশি। শুধু কদরই নয়, ইংলিশ মিডিয়ামে বই, ভাষা সবই ইংরেজিতে এবং প্রাশ্চাত্য সিলেবাস।

ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষাটা খারাপ নয়, দোষেরও নয়।
তাদের সিলেবাস হয়তো যুগোপযোগী কিন্তু সমস্যা হলো এই স্কুলগুলোতে শেখানো হয় না একুশে ফেব্রুয়ারি, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী সংস্কৃতি এবং বাংলা ভাষা সম্পর্কে। সেখানে বাংলা ভাষাটাকে খুব অবহেলা হয়। এই দায়টা কিন্তু কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের না, কারন কোন ছাত্রছাত্রীই সিলেবাসের বাহিরের পড়াশোনা করতে চাইবে না, এটা স্বাভাবিক। কয়েকটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে বাংলা ভাষা তো নিষিদ্ধই। তাদের সিলেবাসভুক্ত “History” (ইতিহাস) বইটাতে গ্রীক, রোম, ব্রিটেনের সভ্যতা-সংস্কৃতি, ইতিহাস, যুদ্ধ-সংঘাত নিয়েই হরেক রকম কেচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করা আছে। কিন্তু বাংলার ইতিহাস নিয়ে আলোচনার ছিটেফোঁটাও নেই অথচ শিক্ষার্থীরা সবাই বাংলাদেশের!

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে পড়া বাচ্চাদের অনেক অভিভাবক যখন গর্ব করে বলে, আমার ছেলে বাংলা পারে না। বাচ্চার পারিবারিক পরিবেশটা যখন এমন থাকে, তখন “আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে…..” এ ধরনের কবিতা তাদেরকে হাজার বার গিলালেও এর মর্ম উপলব্দি করতে পারবে না।

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি! আগামী দুই-একদিন কিছু বুদ্ধিজীবী “বাংলা ভাষার গুরুত্ব নাই” “বাংলা ভাষার জন্য এটা চাই, ওটা চাই” ইত্যাদি বলে বলে খুব চিল্লাচিল্লি করবে! মাইক হাতে, সেমিনারে, সমাবেশে কিংবা টিভি স্কিনের টক শোতে। খবর নিয়ে দেখেন তাদের অনেকের বাচ্চাকাচ্চারা বাংলা ভাষাটাই ঠিকমত জানে না। হয়তো বা একুশে ফেব্রুয়ারি তারিখটা জানে, শহীদ মিনারটা একটু চেনে। শুধু তারিখটা জানলেই কি তাদের ভেতরে মাতৃভাষার প্রতি আবেগটা কাজ করবে? দরদ তৈরি হবে? হবে না, কারন মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি অনুভব করার সুযোগই তাদের নেই। যার ফলে তাদের মধ্যে মুখের দেশপ্রেম তৈরি হলেও সত্যিকারের দেশপ্রেমও তৈরি হয় না।

শুধু মুখ দিয়ে ভালোবাসি বলা, আর হৃদয়ের সমস্ত প্রেম,দরদ আর ভক্তি পুঞ্জিভূত করে ভালোবাসি বলার মধ্যে তফাৎ তো আছেই!!

লেখক: উপসহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক), প্রধান কার্যালয়।