সফলতা নিজে তোমাকে ডেকে নিবে – স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ঢাবি শিক্ষক সাইদুর রহমান

SHARE

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে জনাব সাইদুর রহমান ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের এম.এস.এস পরীক্ষায় সর্ব্বোচ্চ ফল অর্জন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মাননীয় রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ- এর নিকট হইতে অধ্যাপক আয়েশা নোমান স্মারক স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। জনাব সাইদুর রহমান দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রত্রিকা ও জার্নালে নিয়মিত লিখছেন এবং প্রায় দশটির অধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সাইদুর রহমান মুখোমুখি হয়েছেন ইয়ুথ জার্নাল-এর। কথা বলেছেন ইয়ুথ জার্নাল-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম আলাল–এর সঙ্গে।

ইয়ুথ জার্নাল: কেমন আছেন?

সাইদুর রহমান: আলহামদুলিল্লাহ, ভাল আছি।

ইয়ুথ জার্নাল: আপনার শৈশব ও পরিবার সম্পর্কে যদি বলতেন-

সাইদুর রহমান: আমার শৈশব কেটেছে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কামারালি গ্রামে । বাবা আব্দুর রউফ , মা আবিদা থাতুন ও বোন ফাতিমা খাতুনকে (ঢাকা ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত) নিয়ে আমার পরিবার।

ইয়ুথ জার্নাল: আপনার একাডেমিক সফলতা?

সাইদুর রহমান: ২০০৪ সালে মাধ্যমিক এবং কলারোয়া শেখ আমানুল্লাহ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ শেষে ২০০৭-০৮ সেশনে ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। বিএসএস (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করি এবং যার স্বীকৃতি হিসেবে এই স্বর্ণপদক লাভ করি।

ইয়ুথ জার্নাল: এমন একটি সম্মানজনক পুরষ্কার পাওয়ার পর আপনার অনুভূতি?

সাইদুর রহমান: জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। আমি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাধ্যমে । শুধু দেশের মধ্যে নয় বরং দেশের বাইরেও এমন কিছু অর্জন করতে চাই, যার মাধ্যমে দেশের সম্মান আরো বৃদ্ধি পাবে।

ইয়ুথ জার্নাল: আপনার সফলতার পেছনে যাদের কথা না বললেই নয়

সাইদুর রহমান: এই সফলতার পেছনে সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বড় অবদান পিতামাতার সমর্থন ও দোয়া। পিতামাতার পরপরই ছোট চাচা গোলাম রসুল যিনি কামারারি হাইস্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত তার অবদান বেশি। এছাড়া ও তার একমাত্র বোন ফাতিমা খাতুন, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বন্ধুবান্ধব বিশেষ করে  ইনস্টিটিউটের ও আমার প্রাণের স্পন্দন সূর্যসেন হলের ঐ সময়ের ৫০২, ৫১১, ৫১২ ও ১৫৩ এ অবস্থানরতদের অবদান বেশি।

ইয়ুথ জার্নাল: প্রত্যেক সমাবর্তনে এরকম এই পুরস্কার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার করবে কি?

সাইদুর রহমান: পুরস্কার হলো একটি স্বীকৃতি। কোনো ভালো কাজের প্রতিদান স্বরূপ যদি ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হয়, তাহলে পরবর্তীতে ভাল কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহটা অনেক বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে অন্যরাও এটা দেখার মাধ্যমে ভালো কাজের প্রতি অনুপপ্রাণিত হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝেও একটা প্রেষণা কাজ করবে যে আমি সর্ব্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে রাষ্ট্রপ্রতির নিকট হতে স্বর্ণপদক গ্রহণ করবো । ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে লেখাপড়ার আগ্রহটা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

ইয়ুথ জার্নাল: আপনি পেশাদার সমাজকর্মী তৈরীতে অবদান রাখছেন, একাডেমিক শিক্ষা প্রদান করছেন, সামাজিক অবক্ষয় রোধে আপনার পরামর্শ কি?

সাইদুর রহমান: বিশ্বায়নের যুগে দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পারিবারিক নৈতিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা এসব ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

ইয়ুথ জার্নাল: ভাল ফলাফলের জন্য আপনি কী কী কৌশলের প্রতি গুরুত্ব দিবেন?

সাইদুর রহমান: ভাল ফলাফলের জন্য পড়াশোনার বিকল্প নাই। নিয়মিক ক্লাশ করতে হবে। মুখস্থ বিদ্যাকে না বলতে হবে। শিক্ষকদের লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং নোট নিতে হবে। আসলে পড়াশোনার কোনো পরিধি নাই। প্র‌তিবন্ধকতা আস‌বেই সেটা‌কে মোকা‌বেলা কর‌তে হ‌বে ত‌বেই সফলতা আস‌বে।

ইয়ুথ জার্নাল: তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য

সাইদুর রহমান: স্বপ্ন দেখো অনেক বড় এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করো তাহলে সফলতা নিজে তোমাকে ডেকে  নিবে। তোমাদের জন্য শুধু মাত্র দেশের মধ্যে নয় বরং দেশের বাইরেও অনেক বড় পুরস্কার অপেক্ষা করছে।

ইয়ুথ জার্নাল: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

সাইদুর রহমান: শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করতে চাই।

সম্পাদনায়: সফিউল আযম